৫ই এপ্রিল, ২০২৫

বেতন-ভাতা-বোনাস না দিলে সড়ক ছাড়বেন না শ্রমিকরা, ইপিজেডে কয়েক কি.মি. দীর্ঘ যানজট

শেয়ার করুন

একদিকে বেতন-ভাতা-বোনাস পাচ্ছেন না শ্রমিকরা, অন্যদিকে কারখানা লে-অফ (সাময়িক বন্ধ) ঘোষণা। ঈদের আছে আর মাত্র হাতেগণা কয়েকদিন। তাই বাধ্য হয়ে আবারো সড়ক অবরোধ করেছেন জেএমএস গার্মেন্টস লিমিটেডের পাঁচশতাধিক শ্রমিক। আজকের মধ্যে বেতন-বোনাস পরিশোধ করা না হলে তারা সড়ক না ছাড়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, কারখানার মালিকপক্ষ বেতনভাতা পরিশোধের জন্য ব্যাংকে ঋণের আবেদন করেছে। আজকে কোনোভাবেই বেতন-বোনাস দেওয়া সম্ভব হবে না। তবে আগামীকাল দেওয়া হতে পারে।

সোমবার (২৪ মার্চ) সকাল ১১টা থেকে নগরের ইপিজেড থানার ব্যস্তততম এয়ারপোর্ট সড়কের ফ্রিপোর্ট মোড়ে শ্রমিকরা অবরোধ করে অবস্থান নিয়েছেন।

জানা গেছে, জেএমএস গ্রুপের মালিকানাধীন জেএমএস গার্মেন্টস গত ৪ মার্চ কাজ না থাকায় এবং ব্যাংকিং জটিলতার কারণে লে-অফ (সাময়িক বন্ধ) ঘোষণা করা হয়। লে-অফ চলাকালীন শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদেরকে বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন ২০১৯ এর ধারা ১৫ অনুযায়ী, গত ২০ মার্চ ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন এবং ২৩ মার্চ ঈদ বোনাস পরিশোধের কথা ছিল কর্তৃপক্ষের। কিন্তু কোনো শ্রমিক নির্দিষ্ট তারিখে বেতন পাননি।

আজ সকাল ১০টার দিকে বেপজার আশ্বাস অনুযায়ী কারখানার সামনে ভিড় করেন শ্রমিকরা। কিন্তু সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান কারখানায় তালা ঝুলানো। এরপরই তারা ফ্রিপোর্ট মোড় সড়ক অবরোধ করেন এবং বিক্ষোভ করতে থাকেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের উভয় পাশে ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছেন পোশাক শ্রমিকরা। ফলে বন্দর-পতেঙ্গাগামী সব গাড়ি আটকা পড়েছে এবং ওই সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। কিছু শ্রমিকদের হাতে এসময় লাঠিসোঁটাও দেখা গেছে। তারা কোনো গাড়িকেই যেতে দিচ্ছেন না। সড়কের একপাশেই অবস্থান করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

এদিকে, দুপুরের দিকে থানা পুলিশ, শিল্প পুলিশ এবং সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তারা আজকেই বেতন বোনাস পরিশোধের দাবিতে অনড় রয়েছেন।

সড়ক অবরোধের ফলে গত আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সড়ক বন্ধ, তাই বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছেন কর্মজীবী মানুষরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বেলা ২টার দিকে পতেঙ্গাগামী সড়কে আগ্রাবাদ থেকে ফ্রিপোর্ট পর্যন্ত যানজট রয়েছে। অপরদিকে আগ্রাবাদগামী সড়কে প্রায় ৫ কিলোমিটারজুড়ে গাড়ি আটকে আছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের এসপি (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, কারখানার মালিক ঢাকায় ছিলেন। চট্টগ্রাম এসে তিনি এক্সিম ব্যাংকে লোনের আবেদন করে ঢাকায় ফিরে গেছেন। আমরা ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সাথেও কথা বলেছি। আগামীকাল বেতন পরিশোধ করা হবে। কিন্তু শ্রমিকদের দাবি আজকেই দিতে হবে। কিন্তু আজ কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

শেয়ার করুন

আরও পড়ুন