৫ই এপ্রিল, ২০২৫

ঈদের ছুটিতে চট্টগ্রাম শহরজুড়ে চুরি-ছিনতাই-ডাকাতি রুখতে টহল দেবে র‍্যাব

শেয়ার করুন

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি উপলক্ষে চট্টগ্রাম শহর ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। এরই মধ্যে শহর ফাঁকা হতে শুরু করেছে। ফলে ফাঁকা শহরে যাতে ছুরি-ছিনতাই-ডাকাতি না হয় সেজন্য পুলিশের পাশাপাশি টহল দেবে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‍্যাব-৭)।

শনিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঈদ উপলক্ষ্যে র‍্যাবের কার্যক্রমের বিবরণ তুলে ধরা হয়।

র‍্যাব জানিয়েছে, নগরসহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় র‌্যাবের নিয়মিত টহল এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঘরমুখো মানুষ যেন নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে প্রিয়জনদের সাথে ঈদ উদযাপনের লক্ষ্যে তাদের বাড়িতে যেতে পারে সেজন্য র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

ঈদ-উল-ফিতরকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষ যেন কোন ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টিসহ কোন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতিতে না পড়ে সেজন্য র‌্যাব-৭ এর দায়িত্বপূর্ণ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বিশেষ করে অলংঙ্কার, একে খাঁন বাসস্ট্যান্ড, এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এছাড়াও বাসের টিকেট সিন্ডিকেট, কালোবাজারি কিংবা বিআরটিএ কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রভৃতি অপরাধ প্রতিরোধে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অত্র ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

বাসা-বাড়ি এবং মার্কেট ফাঁকা থাকার কারণে কেউ যেন কোন ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ না পায় সে ব্যাপারে নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারিসহ বিশেষ টহল ব্যবস্থা জোরদার করেছে র‌্যাব-৭। বিশেষ করে ঈদ পরবর্তী র‌্যাব-৭ এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও মহল্লায় ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, দস্যুতা ও যে কোন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত অপরাধ প্রতিরোধেও বিশেষ টহল ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

র‍্যাব আরও জানিয়েছে, অজ্ঞান পার্টি এবং মলম পার্টি ছাড়াও বিভিন্ন অপরাধী চক্রকে প্রতিহত করতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এ ধরনের অপতৎপরতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা। ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের নাশকতা-হামলা, যেকোনো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নকারী তথ্য ও গুজব প্রতিরোধ করতে র‌্যাব-৭ প্রস্তুত রয়েছে।

এছাড়াও ঈদ পরবর্তী বিনোদন কেন্দ্র, পার্ক, চিড়িয়াখানায় ঘুরতে গিয়ে কেউ যেন কোনও ধরনের হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যেকোন উদ্বুব্ধ পরিস্থিতি মোকাবেলায় র‌্যাব-৭ এর পর্যাপ্ত রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রয়েছে।

র‍্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ.আর.এম মোজাফফর হোসেন জানিয়েছেন, গত ১ মার্চ হতে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১০ জন দুষ্কৃতিকারী ও নাশকতাকারী এবং ১৫ জন ছিনতাইকারী ধরতে সক্ষম হয়েছে র‍্যাব-৭। ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে এই নিরাপত্তা কার্যক্রম চলমান থাকবে। এছাড়াও যেকোন সহিংসতা বা নাশকতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা বদ্ধপরিকর। এবারের ঈদ-উল-ফিতর শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন নিশ্চিতকল্পে আমাদের সর্বোচ্চ সচেষ্টতা অব্যাহত থাকবে।

শেয়ার করুন

আরও পড়ুন