ঢাকা রেলভবনে এখন একটাই আলোচনা আনসার-শিরিনের প্রেম কাহিনি। শিরিন রেলওয়েতে অস্থায়ী কর্মচারী (টিএলআর) হিসেবে কর্মরত এবং আনসার রেলওয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর (টিসি)।
অভিযোগ উঠেছে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শিরিনের সঙ্গে অবাধে মেলামেশা করেন মো. আনসার আলী। পরে বিয়ে করতে চাপ দিলে অস্বীকৃতি জানান রেলের এই কর্মকর্তা। তাই নিরুপায় হয়ে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে রেল মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন শিরিন আক্তার।
সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি তদন্তে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে

জানা যায়, ফেসবুকে পরিচয় থেকে শুরু হয় আনসার-শিরিনের প্রেমের গল্প। প্রথমে মোবাইল নম্বর বিনিময়। তারপর কথা হতে থাকে কখনো মোবাইল ফোনে, কখনো হোয়াটসঅ্যাপে। তখনো সামনা-সামনি দেখা হয়নি আনসার-শিরিনের। তবে দেখা করার জন্য বারবার শিরিনকে চাপ দিতে থাকেন আনসার আলী। কথায় কথায় দেখাতে থাকেন বিয়ের প্রলোভনও। ব্যস, নারী মন এতেই যেন গলে ক্ষীর। শিরিনও রাজি হন আনসারের প্রস্তাবে।

বিয়ে করে জীবন সঙ্গীনি করার কথা বলে আনসার আলী ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজশাহীতে ডাকেন শিরিন আক্তারকে। রাজশাহী শহরের ‘ওয়ে হোম’ নামে একটি আবাসিক হোটেলে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে রাত্রিযাপন করেন। তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে বিবাহবহির্ভূত শারীরিক সর্ম্পক। রাজশাহীর ওই আবাসিক হোটেলে তারা কয়েক রাত থাকেন। এছাড়াও সৈয়দপুরের একটি আবাসিক হোটেলেও একত্রে মিলিত হয়েছিলেন বহু রাত।
সর্বশেষ চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি শিরিনকে বিয়ে করবেন বলে সৈয়দপুর থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসেন আনসার আলী। চট্টগ্রামের একটি আবাসিক হোটেলেও রাত কাটান তারা। তবে চট্টগ্রামে এসে বিয়ের কথা তুলতেই ভোল পাল্টায় আনসার আলী। বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে চট্টগ্রাম থেকে সৈয়দপুর ফেরত পাঠান শিরিন আক্তারকে। বন্ধ করে দেন হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ও মোবাইলে সকল প্রকার যোগাযোগ।
এদিকে, স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে রেল মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন শিরিন আক্তার। এর প্রেক্ষিতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
লিখিত অভিযোগে শিরিন আক্তার বলেন, ‘আনসার আলী আমাকে বিয়ে করবে বলে প্রতারণামূলকভাবে ধর্ষণ করে যা দন্ডনীয় অপরাধ। এ বিষয়ে হোটেল অবস্থানের স্থিরচিত্র, হোয়াটসঅ্যাপ ও কথাবার্তার দলিলাদি আছে। আমি বিচার প্রার্থী।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালায় একজন কর্মচারীর নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ হল ‘গুরুদণ্ড অপরাধ’। এই অপরাধের দায়ে একজন কর্মকর্তার শাস্তি হল বাধ্যতামূলক অবসর, চাকুরি হতে অব্যাহতি, চাকুরি হতে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার। আর সর্বনিম্ন গুরুদণ্ড অপরাধের শাস্তি- ‘নিম্নপদে বা নিম্ন গ্রেডে পদাবনতি’।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত আনসার আলী রেলওয়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন মহলকে ম্যানেজ করে বিষয়টি কোন ঝামেলা ছাড়াই শেষ করার চেষ্টা করছেন। তবে এ বিষয়ে জানতে আনসার আলীর মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
শিরিন আক্তারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শামিমুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আনসার আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে শিরিন আক্তার নামে একজন এসেছিলেন। আমরা তার অভিযোগের লিখিত বক্তব্য নিয়েছি এবং অভিযোগ লিপিবদ্ধ করেছি। অভিযোগের সত্যতা পেলে অবশ্যই আনসার আলীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।