আজ মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) ‘আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস’। সমাজে ও পরিবারে পুরুষের অবদানকে উদযাপন করতেই পুরুষ দিবসের সূচনা হয়। এছাড়া পুরুষ ও ছেলেদের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, লিঙ্গভিত্তিক সমতা, আদর্শ পুরুষ চরিত্রকে তুলে ধরাও এ দিবস পালনের উদ্দেশ্য।
‘পুরুষদের স্বাস্থ্য রক্ষায় চ্যাম্পিয়ন হতে হবে’—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে ২০২৪ সালে এই দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এই প্রতিপাদ্যটি সামনে রেখেই চল্লিশোর্ধ্ব পুরুষদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হল।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শরীরে বাসা বাঁধে নানা রোগ-ব্যাধি। সবার মধ্যেই সমস্যা দেখা দেয়া সম্ভব। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, পুরুষের মধ্যে সমস্যা নারীদের থেকে কিছুটা বেশি। এর কারণ অবশ্যই পুরুষের জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের ভুলভ্রান্তি। তাই অনেকটাই কম বয়সে এ সমস্যা বড় হয়ে দেখা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ৪০ পেরুলেই শরীরে বাসা বাঁধছে গুরুতর কিছু রোগ। তাই প্রতিটি পুরুষকে এ সময়ে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সতর্ক হতে হবে। এ বয়সে কয়েকটি টেস্ট করা জরুরি।

হার্টের জন্য
এ বয়সেই হার্টের রক্তবাহীনালীর ভেতর প্লাক জমে সমস্যা তৈরি হয়। সম্ভাবনা থাকে হার্ট অ্যাটাকের। তাই এখন বয়স ৪০ পেরুলেই বা তার আগে থেকেই বছরে একবার ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাফি, চেস্ট এক্স রে, প্রয়োজনে ট্রেডমিল টেস্ট করা যেতে পারে। এ ছাড়াও চিকিৎসক বুঝলে আরও টেস্ট দিতে পারেন।
কোলেস্টেরল
বয়স চল্লিশের কাছাকাছি পৌঁছালে নিয়মিত কোলেস্টেরল পরীক্ষা করাতে হবে। কোলেস্টেরল হলো শরীরে থাকা মোমজাতীয় পদার্থ। এ পদার্থ কিন্তু রক্তনালীর ভেতরে জমে। রক্তনালীর ভেতরে জমার কারণে সেই অংশে রক্ত চলাচল ঠিকমতো হয় না বা একবারে বন্ধ হয়ে যায়। এ সমস্যা থেকে বাঁচার জন্যই প্রতিনিয়ত করতে হবে লিপিড প্রোফাইল টেস্ট। এক্ষেত্রে বছরে একবার টেস্ট করুন। কারণ এটি হৃদ্রোগ ও মস্তিষ্কের স্ট্রোক হওয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে।
ডায়াবেটিস

আসলে অসংখ্য মানুষ এখন এ রোগে আক্রান্ত। আর বয়স চল্লিশ পার হলে এই রোগের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। বিশেষত, টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেকটাই। তাই প্রতিটি মানুষকে অবশ্যই এ রোগটি নিয়ে সতর্ক হয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে এ অসুখ থাকলে কিডনি, চোখ, স্নায়ুসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের গুরুতর ক্ষতি হয়। তাই প্রতিটি পুরুষ মানুষকে ডায়াবেটিস টেস্ট করতে হবে বছরে অন্তত একবার। এক্ষেত্রে ফাস্টিং ব্লাড সুগার, পিপি সুগার, এইচবিএ১ সি টেস্ট দিতে পারেন চিকিৎসক।
প্রেশার
ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরলের মতোই এ রোগটিও ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। এ অসুখটিরও প্রথম থেকেই চিকিৎসা দরকার। তাই এ রোগটির পরীক্ষা করুন। এখন বছরে একবার টেস্ট হলো মাস্ট। আর প্রেশার উপররে দিকে থাকলে প্রতিমাসে টেস্ট করতে হবে। একটু এদিক-ওদিক বুঝলেই আপনাকে ওষুধ খেতে হবে।
ভিটামিন ডি
পুরুষের মধ্যে আর্থ্রাইটিস বাড়ছে। তাই করতে হবে ভিটামিন ডি-এর পরীক্ষা। আর্থ্রাইটিসের কারণে কোমর ব্যথা, হাড় জোড়ায় ব্যথাসহ অনেক সমস্যাই দেখা দিতে পারে। এই ভিটামিনের অভাব ঘটলে হাড়ের পাশাপাশি, লিভার ও হার্টের সমস্যাও হতে পারে। বয়স চল্লিশ পেরোলেই হাড়ের ক্ষয় শুরু হতে পারে। তাই সাধারণ হাঁটুর ব্যথা উপেক্ষা না করাই ভালো। অল্প থাকতেই যদি এই সমস্যা ধরা পড়ে তবে বিপদ বাড়ার আশঙ্কা খুব একটা নেই।