প্রকাশের সময়:
মঙ্গলবার ৮ জুন ২০২১ ১২:১৯:০০অপরাহ্ন

স্যানিটারি ইন্সপেক্টর : ১৬ বছরেও স্থায়ী হয়নি চাকরি, আছে বৈষম্য

স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সংকটে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন

মেহেদী হাসান কামরুল  >>

লোকবল সংকটে কাঙ্খিত সেবা দিতে পারছে না চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের স্যানিটারি ইন্সপেক্টররা। দীর্ঘদিন ধরে এই পদে লোক নিয়োগ না হওয়ায় সীমিত সংখ্যক লোক দিয়ে চলছে তাদের কার্যক্রম।

নগরের ৪১ ওয়ার্ডে প্রায় ৭০ লাখ বাসিন্দা রয়েছে। বিপুল পরিমাণ এই জনগোষ্ঠীকে সেবা দিতে মাত্র ১১ জন ইন্সপেক্টর রয়েছে। 

জানা যায়, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পদটি ‘দি বেঙ্গল মিউনিসিপাল অ্যাক্ট -১৮৮৪ অনুসারে প্রথমে জেলা বোর্ডের অধীনে সৃষ্টি করা হয়েছিল। এরপর ১৯৮৮ সালে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশে পদটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত করা হয়। আবার ২০১৩ সালে নিরাপদ খাদ্য আইন প্রণয়ন এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠিত হলে তখন সারাদেশে কয়েক ধাপে ৫৭১ জন স্যানিটারি ইন্সপেক্টরদের নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। বর্তমানে তারা স্বাস্থ্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ থেকে কাজ করছেন।

সেই সুবাদে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনেও ১১ জন অস্থায়ী স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নিয়োগ দেয়া হয়। যাদের কারো চাকরি এখনও স্থায়ী হয়নি। নিয়োগকৃতদের মধ্যে ৬ জন ডিপ্লোমাধারী।  

চাকরি জীবনে দীর্ঘ সময় পার করলেও সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চাকরিজীবীদের তুলনায় স্যানিটারি ইন্সপেক্টরদের পদমর্যাদার বৈষম্য এখনও কাটেনি। ৯ বছর আগে পদমর্যাদা বৃদ্ধির সরকারি নির্দেশনা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে এখনও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

দেশের আপামর জনগোষ্ঠীর খাদ্যমান ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের কাজে মূলত স্যানিটারি ইন্সপেক্টররা তাদের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। 

তাদের কর্মপরিধির মধ্যে রয়েছে হোটেল রেস্টুরেন্ট পরিদর্শন, দৈনন্দিন রিপোর্ট প্রদান, খাদ্য নমুনা সংগ্রহ ও ল্যাবে প্রেরণ, নমুনা ভেজাল হলে আদালতে মামলা দায়ের, পচা-বাসী ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য জব্দ ও ধ্বংস করা, সংক্রামক রোগের কারণ অনুসন্ধান, স্কুল ও কমিউনিটিতে স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রদান, মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ সংরক্ষণ ও কর্তৃপক্ষকে সরবরাহ, মোবাইল কোর্টে আইন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন ইত্যাদি।

বিভিন্ন সময় স্যানিটারি ইন্সপেক্টররা তাদের পদমর্যাদা উন্নীতকরণ এবং লোকবল বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন। বিষয়টির গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তাদের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত ফাইল পাঠায়। যা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

এ প্রসঙ্গে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মো. সুলতান আহমেদ সিদ্দিকী জানান, অন্যান্য বিভাগের আমাদের সমমর্যাদার চাকরিজীবীরা ইতোমধ্যে ওপরের ধাপে উন্নীত হয়েছে।  কিন্তু আমরা আগের অবস্থানে রয়ে গেছি। অথচ আমরা রাষ্ট্রের দুটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে জনগুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছি। এ ক্ষেত্রে আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টরদের ৯ম গ্রেডে এবং অন্যান্য স্যানিটারি ইন্সপেক্টরদের ১০ গ্রেডে উন্নীত করলে মনোবল ও কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া দেশের অধিকাংশ সিটি করপোরেশনে পর্যাপ্ত স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নেই। একজনকে বাড়তি কাজ করতে হয়।

অথচ বাড়তি সেই কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কোনো প্রকার আনুতোষিক প্রদান করে না। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চসিকের একাধিক স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মহানগর নিউজকে জানান, ৪১টি ওয়ার্ডে সেবা নিশ্চিত করতে ১১ জন ইন্সপেক্টর পর্যাপ্ত নয়। লোকবল সংকটের কারণে একজন ব্যক্তিকে কমপক্ষে ৫টি ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করতে হয়। ইন্সপেকশনের বাইরে আমাদের আরো অনেক দাপ্তরিক কাজ করতে হয়। 

সিটি করপোরেশনের অন্যান্য দপ্তরগুলো সরকারি মোটরসাইকেল কিংবা যাতায়াত ভাতা পেলেও আমাদের কোনো কিছুই দেয়া হয় না। আমরা নিজেদের পকেটের টাকায় ইন্সপেকশনের জন্য বের হই। 

একজন স্যানিটারি ইন্সপেক্টর জানান, ষোলো বছর চাকরি শেষ করে ফেলেছি। অনেক মেয়র এলো আর গেলো। কেউ চাকরি স্থায়ী করার উদ্যোগ নেয়নি। বরং চাহিদার অর্ধেকের চেয়ে কম লোকবল নিয়ে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। এখন আশা ছেড়ে দিয়েছি। যতদিন আছি চাকরি শেষ করে বিদায় নিতে চাই।

সার্বিক বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. সেলিম আকতারের সঙ্গে। একাধিকবার তাকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায় নি।

কেডি



আরও খবর