প্রকাশের সময়:
বুধবার ২৬ মে ২০২১ ০৭:৫৩:০০পূর্বাহ্ন
এ জয় ওয়ানডে বিশ্বকাপ সুপার লিগেও শীর্ষে তুলে দিয়েছে বাংলাদেশকে

লঙ্কানদের হারিয়ে টাইগারদের ইতিহাস

মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলেন

নিজস্ব ক্রীড়া প্রতিবেদক   :

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের মিস্টার ডিপেন্ডেবল বলা হয় মুশফিকুর রহিমকে। তার হাত ধরে নতুন ইতিহাস লিখলো টাইগাররা। তার ১২৫ রানের অনবদ্য ইংনিস দলকে লড়াইয়ের শক্তি দিয়েছে। বাকি কাজটুকু সেরেছেন বোলাররা।  এ জয়ে প্রথমবারের মতো লঙ্কানদের বিপক্ষে সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশের জয় যখন সময়ের ব্যাপার তখন বৃষ্টি এসে বাগড়া দিলো। ৩৮তম ওভার শেষে বৃষ্টির কারণে বন্ধ ছিল খেলা। বৃষ্টি থামার পর শেষ পর্যন্ত খেলা গড়ায় মাঠে। তবে ডি/এল নিয়মে শ্রীলঙ্কাকে যে লক্ষ্য বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, তা অর্জন করা স্রেফ অসম্ভব ছিল। জিততে হলে ২ ওভারে ১১৯ রান করতে হতে শ্রীলঙ্কাকে।

মঙ্গলবার টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ অলআউট হয় ২৪৬ রানে। শ্রীলঙ্কা ৩৮ ওভারে ৯ উইকেটে ১২৬ রান তোলার পর বৃষ্টিতে বন্ধ হয় ম্যাচ। পরে তাদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪০ ওভারে ২৪৫। বাকি দুই ওভারে তারা যোগ করতে পারে ১৫ রান। ফলে ১০৩ রানের এই জয়ে নিশ্চিত হলো সিরিজ জয়।

এর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৮টি সিরিজ খেলেছে। যার মধ্যে ৬টিতেই হেরেছে তামিম-সাকিবরা। বাকি দুটি সিরিজ বৃষ্টির কারণে ড্র হয়েছে। সেই সিরিজ দুটিতে শ্রীলঙ্কার মাটিতে ২০১৩ সালে ও ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা একটি করে ম্যাচ জিতেছিল। তাই নবমতম সিরিজে বাংলাদেশের এ জয় দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচিয়েছে। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে সহজেই জিতেছে বাংলাদেশ। 

bd-sri-mohnagar

এই ম্যাচের জয় ওয়ানডে বিশ্বকাপ সুপার লিগেও শীর্ষে তুলে দিয়েছে বাংলাদেশকে। এখন ৫০ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে টাইগাররা। ইংল্যান্ড, পাকিস্তান আর অস্ট্রেলিয়ারও পয়েন্ট ৪০। 

২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে মাত্র একটি। ২০১৬ সালের সেই সিরিজে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল ওয়ানডের বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচটি ঘরের মাঠে বাংলাদেশের টানা নবম জয়। 

এর আগে ২০১৪-২০১৫ সালে টানা ১০ ম্যাচ জয় ঘরের মাঠে টাইগারদের সর্বোচ্চ রেকর্ড। শ্রীলঙ্কাকে এবার ধবলধোলাই করলেই আগের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলবে তামিমরা।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ৫০টি ওয়ানডে খেলে বাংলাদেশ জিতেছে ৯টিতে। টেস্টে তাদের বিপক্ষে ২২ ম্যাচে জয় মাত্র একটি এবং টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের অর্জন এখন পর্যন্ত ১১ ম্যাচে ৪ জয়। তবে তিন সংস্করণের এবার সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ।

আজ শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের একে একে উইকেট পড়ায় মুশফিককে খেলতে পারেননি স্বাভাবিক  খেলা। সেঞ্চুরি করতে মাত্র ছয়টি চার মেরেছেন, যার চারটিই এসেছে ৮০র ঘরে এসে।  বাংলাদেশ দল ১৫ রান তুলতে আউট হন তামিম ইকবাল। সাকিব আল আল হাসানও কিছু  করেতে পারেননি। ৪৯ রান তুলতেই  তিন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান আউট। মোসাদ্দেক হোসেনও ক্রিজে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। বাংলাদেশকে ৭৪ রানে ৪ উইকেট হারায়। মাহমুদউল্লাহ  ক্রিজে এসে হাল ধরেছেন। ২ ছক্কা ও ১ চারে ৪১ রান করে দলকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

ইনিংসের ৩৪তম ওভারে মাহমুদউল্লাহ আউট হওয়ায় মুশফিক আবারও হাল ধরেন। ক্রিজে এসে আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজের কেউই টিকতে পারেনি।  তবে আটে নামা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে নিয়ে মুশফিক চালিয়ে যান তার লড়াই। ১১ রান করে আউট হন সাইফউদ্দিন। এরপর শরিফুলও টেকেননি। ৪৫তম ওভারে ৯৯ রানে থাকতে মুশফিককে থার্ড ম্যান দিয়ে সহজে চার মারার বলটি দেন চামিরা। লেগে কবজির মোচড়ে প্রত্যাশিত চার মেরে সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিক। ১১ বল থাকতেই শেষ উইকেট হিসেবে ইনিংস শেষ হয় মুশফিকের।  

bd-mohanagar

শুরুতে দেখে শুনেই ব্যাট করছিলেন দুই ওপেনার দানুশকা গুনাথিলাকা ও কুশল পেরেরা। কিন্তু অভিষিক্ত পেসার শরিফুলের গতির কাছে থিতু হতে পারলেন না পেরেরা। অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা এই পেসারের বলে ক্যাচ উঠিয়ে দিয়েছেন। পেরেরা ফিরেছেন ১৪ রানে। এর পর গুনাথিলাকা ও পাথুম নিসাঙ্কা জুটি গড়ে সেই ধাক্কা সামাল দিতে থাকেন। মোস্তাফিজের আঘাতে বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি এই জুটি। ১৪তম ওভারে কাটার মাস্টারের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ২৪ রান করা গুনাথিলাকা। এর পর পাথুম নিসাঙ্কার উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে চাপে ফেলে দেন সাকিব। পুল করতে গিয়ে তামিমের তালুবন্দি হয়ে ফিরেছেন তিনি ২০ রানে। শ্রীলঙ্কার বিপদ আরও বাড়িয়ে দেন মেহেদী মিরাজ। লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন কুশল মেন্ডিসকে। লঙ্কান ব্যাটসম্যান রিভিউ নিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। এর পর সাকিব আবার আঘাত হানলে নড়বড়ে হয়ে পড়ে লঙ্কানরা। ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাকে (১০) ফিরিয়েছেন এলবিডাব্লিউতে।

sri-bd-mohangar

এমন পরিস্থিতিতে দাসুন শানাকা মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ছিলেন। মেরেছেন ছক্কাও। কিন্তু মিরাজকে উঠিয়ে মারতে গিয়ে শেষ রক্ষা হয়নি তার। ১১ রানে ক্যাচ হন মাহমুদউল্লাহর। আগের ম্যাচে হুমকি হয়ে দাঁড়ানো ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা অবশ্য এদিন তেমন কিছু করতে পারেননি। ৬ রান করেই বোল্ড হন মেহেদী মিরাজের। এর পর আশেন বান্দারা (১৫) ও লাকশান সান্দাকানকে (৪) ফিরিয়ে জয়টাকে আরও কাছে নিয়ে আসেন মোস্তাফিজুর রহমান।  

 



আরও খবর