প্রকাশের সময়:
বৃহস্পতিবার ৩ জুন ২০২১ ০৪:১৭:০০অপরাহ্ন

মশা মারতে ব্যর্থতার দায় নগরবাসীর ওপর চাপিয়ে দিলেন মেয়র

১০০ দিনের ক্র্যাশ পোগ্রামের অগ্রগতি জানাতে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন মেয়র এম. রেজাউল করিম চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঘোষিত ১০০ দিনের ক্র্যাশ প্রোগ্রামে মশা মারতে ব্যর্থতার দায়ভার নগরবাসীর ওপর চাপিয়ে দিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম. রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, নাগরিকরা যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে নালা-নর্দমা, খালের পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এতেই মশার উৎপাত বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ জুন) দুপুরে নগরীর আন্দরকিল্লায় পুরাতন নগর ভবনের কেবি আব্দুস ছত্তার মিলনায়তনে দায়িত্ব গ্রহণ পরবর্তী ১০০ দিনের ক্র্যাশ পোগ্রামের অগ্রগতি জানাতে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় মেয়র বলেন, মশক নিধন অভিযানে প্রতিটি ওয়ার্ডে ২  জন শ্রমিক ফগার স্প্রে ও ৫ জন শ্রমিক হ্যান্ড স্প্রে’র মাধ্যমে তরল ওষুধ ছিটানোর কাজে নিয়োজিত ছিল। নাগরিক অসচেতনতার কারণে এর অশানুরূপ ফলাফল আসেনি।

তিনি বলেন, আমি নিজে উপস্থিত থেকে স্কেভেটর দিয়ে নগরীর ফুলতলা খালের ময়লা পরিষ্কার করেছি। ১ সপ্তাহ পর সেই খাল আবারো ময়লা ফেলে ভরাট করে ফেলা হয়েছে। ময়লা-আবর্জনা মশার আবাসস্থল। নাগরিকরা যদি খাল-নালা-নর্দমায় ময়লা ফেলে ব্লক করে ফেলে, তাহলে সিটি করপোরেশন কতক্ষণ তদারকি করবে! করপোরেশনের তো আরও অনেক কাজ রয়েছে। নাগরিকদের কি সচেতন হওয়ার প্রয়োজন নেই! 

সিডিএ’র ওপর দোষ চাপিয়ে মেয়র বলেন, সিডিএ কর্তৃক জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়নে খালের বিভিন্ন অংশে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। ফলে সেখানে পানি জমাট বেঁধেছে। সেই জমাট পানি মশার নির্বিঘ্ন প্রজননে দায়ী। তাই ওষুধ ছিটিয়েও কোনো কাজ হয়নি।

নগর আলোকায়নে শতভাগ সফল জানিয়ে মেয়র বলেন, বিদ্যুৎ উপ-বিভাগের অধীনে নগরীতে আলোকায়নে ৩০টি রাস্তার ৭৬ কিলোমিটার অংশে পোল বসিয়ে এলইডি বাতি স্থাপন করা হয়েছে। এতে পোল সংখ্যা ২ হাজার ৯৬০টি এবং এলইডি বাতির সংখ্যা ৪ হাজার ১১টি। অথচ রাতের বেলায় নগরীর টেকনিক্যাল থেকে অক্সিজেন, অক্সিজেন থেকে নতুন পাড়া, আতুরার ডিপো থেকে রউফাবাদ, প্রবর্তক মোড় থেকে পাঁচলাইশ, স্টেশন রোড থেকে টাইগারপাস মোড়, চকবাজার গণি বেকারি থেকে আন্দরকিল্লা, পাহাড়ি সড়কসহ আশেপাশের এলাকায় সড়ক বাতি ঠিকমত জ্বলছে না।  দু’একটা জ্বললেও অধিকাংশ সড়কবাতি জ্বলে না। অন্ধকার থাকায় এসব সড়কে ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়মিত হচ্ছে। এছাড়া বর্ষার সময় সড়কে পানি জমে থাকলে আরও ভোগান্তি বাড়বে। আলো না থাকার ফলে কোনটা সড়ক, কোনটা নালা-গর্ত, সেটাও বোঝা যাবে না।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চসিক প্যানেল মেয়র গিয়াস উদ্দিন, আব্দুস সবুর লিটন, আফরোজা কালাম, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাস প্রমুখ।

মহানগর নিউজ/এমএইচকে/আরসি

 



আরও খবর