প্রকাশের সময়:
মঙ্গলবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৭:১৬:০০অপরাহ্ন

বঙ্গবন্ধু টানেলের টোল আদায়ের প্রস্তাব নাকচ

বঙ্গবন্ধু টানেল

মহানগর ডেস্ক »

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায় সংক্রান্ত প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। টানেলটি নির্মাণের দায়িত্বে থাকা চায়না কমিউনিকেশন্স কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিসিসিসি) এই প্রস্তাব জমা দিয়েছিল।

মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠেক সিসিসিসি‌’র প্রস্তাবটি নাকচ করে দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে অনুমোদিত ক্রয়প্রস্তাবগুলোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ সময় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আরেফিন উপস্থিত ছিলেন।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর দুই তীরকে যুক্ত করতে ৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর তলদেশে সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ টানেল নির্মাণের কাজটি বাস্তবায়ন করছে সিসিসিসি। এই টানেলের রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায়ের দায়িত্ব চেয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি প্রস্তাব জমা দিয়েছিল। তবে সেই প্রস্তাব ক্রয় সংক্রান্ত কমিটি নাকচ করে দিয়েছে। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’ নির্মাণ কাজে সিসিসিসিকে সার্ভিস-অপারেটর নিয়োগের প্রস্তাবেও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়নি। অর্থমন্ত্রী বলেন, কিছু ব্যত্যয় ও মিসিং লিংক আছে। এগুলো প্রতিপালন করে এলে তারপর এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অর্থনৈতিক ও ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির আজকের (মঙ্গলবার) বৈঠক নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য তিনটি এবং ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদনের জন্য একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল বৈঠকে। ক্রয় সংক্রান্ত কমিটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রস্তাবে ২০২২ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক স্তরের (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি) বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনের ৭২টি লটে সুপারিশ করা রেসপনসিভ সর্বনিম্ন ২৫টি দরদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১ কোটি ৮৮ লাখ ৭৫ হাজার ৭৩৫ কপি বই মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর জন্য খরচ হবে ৩৩ কোটি ৯৫ লাখ ৭৫ হাজার ৭৭৫ টাকা, যার পুরোটাই জিওবি থেকে ব্যয় করা হবে।

অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কনভেনশন সেন্টারে এক হাজার শয্যার কোভিড ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। প্রথম পর্যায়ে দ্রুততম সময়ে ২০০ শয্যার কোভিড ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের পূর্ত কাজ এবং চিকিৎসা যন্ত্রপাতি রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে পিপিএ ২০০৬-এর ধারা ৬৮(১) এবং পিপিআর, ২০০৮-এর বিধি ৭৬(২) অনুযায়ী সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ক্রয়ের প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল নির্মাণ খরচ ১০ কোটি ২৮ লাখ ২২ হাজার টাকা।

মন্ত্রী বলেন, আমরা চাই না এই মহামারি আমাদের মাঝে আর ফিরে আসুক। তবে আমাদের যদি প্রয়োজন হয় তবে আরও ফিল্ড হাসপাতাল করতে হবে। আমাদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে হবে। এটি সরকারের অগ্রাধিকার। সে কারণে এই প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে আমরা চাই মহামারি শেষ হয়ে যাক।

পুঁজিবাজারে তহবিল প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংলাদেশ ব্যাংক ও সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন যে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে তা সরকারি সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনই যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।

মহানগর নিউজ/এসএ



আরও খবর