প্রকাশের সময়:
মঙ্গলবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৭:৪৬:০০অপরাহ্ন

পাহাড় কাটছে ভূমিদস্যুরা, খবর নেই সেবা সংস্থাগুলোর

পাহাড় কেটে সড়ক

শুভ্রজিৎ বড়ুয়া

কানে দিয়েছি তুলো, পিঠে বেঁধেছি কুলো- এমনই উদাসীন অবস্থা চট্টগ্রামের সেবা সংস্থাগুলোর। পরিবেশ রক্ষায় তাদের হাঁকডাক-তোড়জোড় দেখা গেলেও, পাহাড় কেটে সড়ক করার কাজের খবর জানা নেই তাদের। তাদের অজান্তেই চট্টগ্রামের পাহাড়গুলো কাটছে ভূমিদস্যুরা।

এমনই একটি পাহাড়ি এলাকা আকবর শাহ থানা এলাকার সুপারি বাগান। পাহাড় কেটে এ এলাকায় ‘এশিয়ান রোড’ নামে নির্মিত হচ্ছে একটি সংযোগ সড়ক। এই সংযোগ সড়কটি লেক সিটি এলাকার সাথে সংযুক্ত করছে বায়েজিদ বাইপাস সড়ককে। স্থানীয়দের মতে, খুব অল্প সময়ের মধ্যে সড়কটি হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, লেক সিটির উত্তর অংশে সড়ক নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের দিকে। স্থানীয়রা জানায়, সিটি করপোরেশন এ বছরের শুরুর দিকে সড়কের কাজ শুরু করে। লেকসিটির উত্তর অংশের পর সড়কের কাজ এখনও শুরু হয়নি। তবে জন চলাচলে ব্যবস্থা হয়েছে পাহাড় কেটে। পাহাড়ের মাঝে অর্ধনির্মিত সড়কে গিয়ে দেখা যায়, এর উত্তর পাশে গড়ে উঠেছে আবাসন। আছে দোকানপাটও। রাস্তা ধরে ৪-৫ মিনিট উত্তরে হেঁটে গেলে পৌঁছানো সম্ভব বায়েজিদ বাইপাস সড়কে।

pic-pahad 2-2
 

কারো কারো মতে, এই সংযোগ সড়ক নির্মাণ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। আবার কারো কারো মতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। আর তার ব্যবস্থা করছেন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর। সংযোগ সড়কের শেষ উত্তর অংশে লম্বালম্বি পূর্ব-পশ্চিমে সড়কটি নির্মিত হয়েছে। যার পূর্ব অংশ শেষ হয়েছে একটি পুকুরে ও পশ্চিম অংশ শেষ হয়েছে খোলা স্থানে।

দু'টি সেবা সংস্থায় খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এ সংযোগ সড়ক কে বা কারা করছে তা তারা জানে না। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে বায়েজিদ বাইপাস সড়ক প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী রাজীব দাশ বলেন, 'আমরা শুধু বায়েজিদ বাইপাস সড়ক নির্মাণ করেছি। এই সড়কের সাথে সংযুক্ত কোনো সড়ক আমাদের প্রকল্পে ছিল না।'

কথা হয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, 'লেকসিটি আবাসন প্রকল্পে বর্তমানে সিটি করপোরেশনের কোনো প্রকল্প নেই। এছাড়া বায়েজিদ বাইপাস সড়কের সাথে অন্য কোনো সড়ক সংযোগের প্রকল্প সিটি করপোরেশনের নেই।'

সড়কটি কে বা কারা নির্মাণ করছে তা জানতে চাওয়া হয় উত্তর পাহাড়তলী ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. জহুরুল আলম জসিমের কাছে। তিনি বলেন, 'এখানে কোনো প্রকল্প নেই। তবে স্থানীয়দের সুযোগ-সুবিধার কথা চিন্তা করে রাস্তাটি করা হয়েছে। ওখানে যারা থাকে তাদের চলাচলের কথা চিন্তা করেই এ ব্যবস্থা।'

pic-pahad3-1

তবে কোন প্রয়োজনকে ঊর্ধ্বে রেখে কিংবা কিসের স্বার্থে পাহাড় কেটে রাস্তার কাজ হচ্ছে- তা জানতে চাওয়া হয় চট্টগ্রাম সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর কাছে। তিনি বলেন, পাহাড়ে কোদালের কোপ পড়ে এমন কোনো প্রকল্প সিটি করপোরেশন নেয়নি। এত রাস্তা থাকতে মানুষের কেন পাহাড় কেটে রাস্তা করার প্রয়োজন হচ্ছে! অনেক সময় মানুষ নিজেদের স্বার্থে নানা অনিয়ম করে সিটি করপোরেশনের নাম ব্যবহার করে। তবে এ রাস্তা নির্মাণ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য ছিল না। এখন যেহেতু জানতে পেরেছি, বিষয়টি ভালোভাবে দেখব। পাহাড়-প্রকৃতিকে ধ্বংস করে কোনো কাজকে সিটি করপোরেশন কোনো যুক্তিতেই প্রাসঙ্গিক মনে করে না।

প্রসঙ্গত, নগরীর কৈবল্যধাম হাউজিং স্টেটের উত্তর-পূর্বে লেক সিটি হাউজিং। ২৪ দশমিক ৪১ একরের এ আবাসন প্রকল্পটি ২০০৩ সালে ক্রয় করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। পরিবেশ অধিদপ্তর ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নিয়েই ২০০৬ সালে পাহাড় কেটে সমতল ভূমি গড়ে তোলার কাজ শুরু করে এ সেবা সংস্থা। তবে ২০০৭ সালের জুনে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে হতাহতের ঘটনায় এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। 

মহানগর নিউজ/আরসি

 



আরও খবর