প্রকাশের সময়:
শুক্রবার ৪ জুন ২০২১ ০৭:১২:০০অপরাহ্ন

উৎপাদনে দেশের শীর্ষ হালদা ভ্যালির চা বর্হিবিশ্বে

চা বাগান

বাংলাদেশে চা উৎপাদনের ইতিহাস ১৮১ বছরের পুরানো। ১৮২৮ সালের অবিভক্ত ভারতে রাঙ্গুনিয়ার কোদালায় ১৮৪০ সালে প্রথম চা গাছ পরীক্ষামূলকভাবে রোপণ করে চট্টগ্রাম ক্লাব। তবে ১৯৫৭ সালের ৪ জুলাই প্রথম বাঙালি হিসেবে তৎকালীন পাকিস্তান চা বোর্ডের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। চা শিল্পে অগ্রগতি ও এ ঘটনার ঐতিহাসিক স্বীকৃতি রক্ষায় ৪ জুলাই জাতীয় চা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের ১৬২টি বাগানের ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে চা উৎপাদিত হয়। এরমধ্যে চট্টগ্রামে চা উৎপাদন হয় ১৮টি বাগানে, যার একটি হলো হালদাভ্যালি চা বাগান। এ বাগান উৎপাদনে দেশের শীর্ষে অবস্থান নেয়ার পাশাপাশি পরিচিতি সৃষ্টি করছে বর্হিবিশ্বে। 

হালদা ভ্যালি নামের এ চা বাগানটি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির শেষ প্রান্তে নারায়ণহাট ইউনিয়নে অবস্থিত। চায়ের ইতিহাস থেকে মুছে যাওয়া শতবর্ষী এ বাগানের সাফল্য রীতিমতো নতুন করেই লেখা হচ্ছে। ২০২০ সালে যখন চা উৎপাদনে সকল বাগানের মন্দাদশা চলছে তখন সব বাগানকে পেছনে ফেলে উৎপাদনের রেকর্ড গড়েছে এ বাগানটি। আকার-আয়তনে অনেক চা বাগান থেকে এ বাগানটি ছোট হলেও তার সাফল্য চোখে পড়ার মতো। ২০১৭ সালেও চা উৎপাদনে ‘সেরা পুরস্কার’ পেয়েছে এ বাগানটি।

অথচ গত দেড় যুগ আগেও এ বাগানটি ছিলো পরিত্যক্ত। বাগানটি ১৯০৫ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ছয়টি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাত ঘুরে সবশেষে আসে পেডরোলো গ্রুপের হাতে। এ গ্রুপই পরিত্যক্ত বাগানটিকে উৎপাদনে সেরা করে তোলে চমকে ওঠার মতো কিছু পদক্ষেপ নিয়ে। বাগান কর্তৃপক্ষ প্রথমে বাগানের মাটি চা চাষের উপযোগী করে। এরপর প্রতি ধাপেই নতুন কৌশল ব্যবহৃত হয়েছে বাগানটিতে। এমনকি থাইল্যাণ্ডের প্রযুক্তি ব্যবহার করে হালদা নদীর পানি দিয়ে সেচ ব্যবস্থা করা হয়। আর এতেই উৎপাদনে এমন সফলতা এসেছে বলে মনে করে চা বাগান কর্তৃপক্ষ।

হালদা ভ্যালি টি এস্টেটের ব্যবস্থাপক বেলায়েত হোসেন মহানগর নিউজকে জানান, আমরা চা বাগানকে প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত রাখার চেষ্টা করেছি। তাই আমাদের সফলতা অর্জন সহজ হয়েছে। গত বছর (২০২০) করোনাসহ সঠিক সময়ে বৃষ্টি না হওয়ায় প্রায় সব বাগানে উৎপাদন কম হয়েছে। কিন্তু আমরা উৎপাদনে রেকর্ড গড়তে পেরেছি। আমাদের তখন উৎপাদন হয়েছিলো ১০ লাখ ৮৭ হাজার কেজি। এছাড়া আমরা বাগানে ড্রাগন, নারিকেল, আম ও কমলার চাষ করছি। চায়ের মধ্যে ৬ রকমের চা উৎপাদন করছি। এরমধ্যে কালো চায়ের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

চা উৎপাদনের পাশাপাশি বিক্রয় প্রসঙ্গে কথা বলে তিনি বলেন, ‘চা উৎপাদন হলে তা বিক্রির ব্যবস্থাতো করতেই হবে। আমরা চা বোর্ডের মাধ্যমে এ বিক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করি। পাশাপাশি চীন, জার্মানি ও জাপানে আমরা চা রপ্তানি করছি। এরমধ্যে চীনে আমাদের চা রপ্তানি বেশি হয়। আমরা মূলত গ্রিন টি রপ্তানি করে থাকি। গতবছর আমরা ১ হাজার কেজি চা রপ্তানি করেছি।’

 

এবারের ফলন অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বৃষ্টি না হওয়ায় এবার উৎপাদন গতবারের তুলনায় কম হয়েছে। তবে আশা করি যে সময় আছে এতে উৎপাদনে পরিবর্তন আসবে। পরিবর্তনটা আমাদের আশানুরূপ হবে বলেই মনে করছি। পরিবর্তন হলে আমরা গতবারের রেকর্ড এবার ব্রেক করবো। 

প্রসঙ্গত, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ উৎপাদনের রেকর্ড গড়েছে হালদাভ্যালি টি এস্টেট। বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে চা উৎপাদিত হয়েছে ৯ কোটি ৬০ লাখ ৬৯ হাজার কেজি, যা ২০১৮ সালের চেয়ে ১ কোটি ৩৯ লাখ কেজি বেশি। এক বছরে চা উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ। ২০১৭ সালে চা বাগানে হেক্টর প্রতি সর্বোচ্চ উৎপাদন করে হালদা ভ্যালি টি এস্টেট। সে সময় দেশে গড় উৎপাদন ছিল ১ হাজার ৪৭৭ কেজি। আর হালদা ভ্যালি উৎপাদন করেছে ৩ হাজার ৭১৭ কেজি। অন্যদিকে, ২০১৮ সালে দেশে হেক্টর প্রতি গড় উৎপাদন ছিল ১ হাজার ৫২৯ কেজি। সেখানে হালদা ভ্যালির উৎপাদন ছিল ৩ হাজার ৮০১ কেজি। আর মোট উৎপাদন ছিল প্রায় ৯ লাখ কেজি।

 

মহানগরনিউজ/এসবি/টিকেসি

 



আরও খবর